সবশেষ শুক্রবার রাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যা চলতি বছরের হামলার তালিকায় নতুন সংযোজন।
যেসব দেশে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
সিরিয়া:
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ায় আইএসের কথিত ৭০টি অবস্থানে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পালমিরায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়। ট্রাম্প একে ‘ভয়াবহ প্রতিশোধ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
ইরান:
২২ জুন ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা—নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোতে হামলা চালানো হয়। ট্রাম্পের দাবি, এতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালালেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরাক:
মার্চে ইরাকের আল-আনবার প্রদেশে আইএসের শীর্ষ নেতা আবদাল্লাহ আবু খাদিজাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়। ট্রাম্প এ অভিযানে তার ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতির প্রতিফলন দেখেন।
ইয়েমেন:
২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিমান ও নৌ হামলা চালানো হয়। বন্দর, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এসব হামলায় শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
নাইজেরিয়া:
২৫ ডিসেম্বর উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় আইএস-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সরাসরি সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। নাইজেরিয়া সরকার অভিযানকে সফল বললেও হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।
সোমালিয়া:
২০২৫ সালে সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার সংখ্যা অতীতের সব প্রশাসনকে ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার দাবি, অন্তত ১১১টি হামলা চালানো হয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ, এমনকি শিশুর মৃত্যুর তথ্যও উঠে এসেছে।
ভেনেজুয়েলা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল:
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলাগামী নৌযানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলা এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করেছে।
মুসলিমপ্রধান দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে যেসব সাতটি দেশে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক হামলা চালিয়েছে, তার মধ্যে ছয়টিই মুসলিমপ্রধান দেশ। ব্যতিক্রম কেবল ভেনেজুয়েলা, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ খ্রিস্টান। তেলসমৃদ্ধ দেশটিতেও শুক্রবার রাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হয়েছে।
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
নির্বাচনী প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি যুদ্ধ থেকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এক বছরে সাতটি দেশে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সক্রিয়তা ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা

0 মন্তব্যসমূহ