শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, সরকার এখনো মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, মাদুরো ও ফ্লোরেস জীবিত আছেন—এমন প্রমাণ চায় সরকার।
ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় ধারাবাহিক প্রাণঘাতী অভিযানের পর মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রকে মদদ দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন মাদুরো।
মাদুরোর গ্রেপ্তারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক হস্তক্ষেপের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে পানামার সাবেক নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগা ও ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে আটকের ঘটনার সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
নোরিয়েগার পরিণতি
১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পানামা আক্রমণ করে দেশটির সামরিক ও কার্যত নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। মাদক পাচার, দুর্নীতি ও অগণতান্ত্রিক শাসনের অভিযোগ তুলে এই অভিযান চালানো হয়। এর আগে ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে নোরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর নোরিয়েগার বিচার হয় এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে কারাবন্দি ছিলেন। পরে তাকে ফ্রান্সে এবং এরপর পানামায় পাঠানো হয়। ২০১৭ সালে পানামার কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
সাদ্দামের পতন
২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা অভিযোগ তুলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ইরাক আক্রমণ করে। একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর বাগদাদের কাছে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একসময় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও শেষ পর্যন্ত সাদ্দামকে ইরাকি আদালতে বিচার করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
হার্নান্দেজ প্রসঙ্গ
বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের পদক্ষেপকে ‘ভণ্ডামিপূর্ণ’ বলেও অভিহিত করছেন। উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট জুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের ঘটনা। ২০২২ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয় এবং মাদক ও দুর্নীতির মামলায় ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘সরকার উৎখাত ও নিয়ন্ত্রণ’ নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ